Saturday, September 12, 2026
শক্তি ।।
ধর্মতলা গুমটি ।। শিলিগুড়ি যাচ্ছি ।। মন ভালো নেই ।। বাস আসছে না ।। হঠাৎ কে যেন বলল " শক্তি নেই" ।। একটা মুহূর্ত যেন থমকে দাড়াল ।। হঠাৎ হাসি পেল ।। ভাল ঠাট্টা করতে জানে শক্তি ।। "চলে গেল" মানে কি? হাঃ ।। পারেও শক্তি !!
বাস স্ট্যাণ্ডে খবর পেলুম
তোমার যাত্রা শেষ ।
হাসি পেল । চলে গেলে
শক্তি, অন্য দেশ ?
আঙ্গুল ধরে শিখিয়েছিলে
বালক বালিকাকে
ব্যর্থ প্রেমের কুসুমঘরে
মিষ্টি দুঃখ থাকে ।।
তোমার কাছে ভালবাসার
সহজপাঠ শিখি
এলায়ে পড়া ছবির ফ্রেমে
আনন্দ ভৈরবী ।।
পবিত্রতা শিখিয়েছিলে
অশ্লীলতার ফাঁকে
কুসুম কুসুম বৃষ্টি হলে
বড্ড মনে পড়ে ।।
বেগম আখতার ।।
তখন কলেজ ।।
কফি
হাউস
।। সিগারেট ।। বামপন্থী মিছিল ।। ঠা ঠা রোদ্দুরে গনসঙ্গীত ।। বাদাম ভাজা ।। ষাঠ পয়সার গ্যালারি তে খিস্তি খেউড় ।। পাড়ার মোড়ে রাজা উজির ।। অনেক রাত্রে বাড়ি ফেরা ।। লোড শেডিং ।। মশারি ।। খোলা জানলা ।। হাল্কা হাওয়া ।। তোমার কথা ।। ঘুম আসে না ।। শরীর জুড়োয় হাল্কা হাওয়ায় ।। তোমার সুরে ভেসে যাওয়া ।। তোমার সুরে ঘুমিয়ে পড়া ।।
কফির ঘোরে দিন কাটত
সঙ্গী চারমিনার
রাত্রি শুধু তোমার জন্যে
বেগম আখতার
মিটিং মিছিল শক্তি সুনীল
শহর জেরবার
ঘুম পাড়াতে ক্লান্ত শরীর
বেগম আখতার
মনের গভীর ক্ষতের কথা
এবং হাহাকার
উজার করে তোমায় বলি
বেগম আখতার ।।
কেউ জানে না তুমি জানো
মন হারালো কার
তোমার কাছে আমার চাবি
বেগম আখতার ।।
কফির ঘোরে দিন কাটত
সঙ্গী চারমিনার
রাত্রি শুধু তোমার জন্যে
বেগম আখতার
মিটিং মিছিল শক্তি সুনীল
শহর জেরবার
ঘুম পাড়াতে ক্লান্ত শরীর
বেগম আখতার
মনের গভীর ক্ষতের কথা
এবং হাহাকার
উজার করে তোমায় বলি
বেগম আখতার ।।
কেউ জানে না তুমি জানো
মন হারালো কার
তোমার কাছে আমার চাবি
বেগম আখতার ।।
সুনীল
বুকের বোতাম মুঠোয় নিয়ে
যাচ্ছি বহুদূর
পাশের বাড়ি সঙ্গে যাবি
নিশ্চিন্দিপুর ?
লোকাল ট্রেন জানলার সিট
বাউল মূর্ছনা
লক্ষ্মী মেয়ে আকাশ ভাঙা
স্বপ্ন দেখাস না
যাচ্ছি বহুদূর
পাশের বাড়ি সঙ্গে যাবি
নিশ্চিন্দিপুর ?
লোকাল ট্রেন জানলার সিট
বাউল মূর্ছনা
লক্ষ্মী মেয়ে আকাশ ভাঙা
স্বপ্ন দেখাস না
দূর্বা ঘাসে হাত রাখলাম
গল্প বলার ফাঁকে
চোখের কোনে কাজল লতা
মনে পড়ে মা কে
গল্প বলার ফাঁকে
চোখের কোনে কাজল লতা
মনে পড়ে মা কে
ট্রেন থামছে আকাশ কালো
আবছা ভাঙ্গা পুল
পাশের বাড়ি নামবি নাকি
নিরুদ্দেশে ভুল ।।
আবছা ভাঙ্গা পুল
পাশের বাড়ি নামবি নাকি
নিরুদ্দেশে ভুল ।।
এদিন-সেদিন
সহজ পাঠে সহজ ভাবে
সহজ পরিচয়
আমি তখন নামতা পড়ি
তিন দুগুনে ছয়
সহজ পরিচয়
আমি তখন নামতা পড়ি
তিন দুগুনে ছয়
ছোট নদীর চলার পথে
যাচ্ছি বহু দূর
পৌষ ডাকে ভর দুপুরে
মন মাতানো সুর
যাচ্ছি বহু দূর
পৌষ ডাকে ভর দুপুরে
মন মাতানো সুর
মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে
কান্না কিছুখন
বন্দীবীর এ গাইছ তুমি
অলখ নিরন্জন
কান্না কিছুখন
বন্দীবীর এ গাইছ তুমি
অলখ নিরন্জন
অনেক পরে জীবন স্মৃতি
এক ঝটকায় পড়া
কালে কালে নৌকাডুবি
এবং নায়ক গোরা
এক ঝটকায় পড়া
কালে কালে নৌকাডুবি
এবং নায়ক গোরা
হোঁচট খাওয়া মুষরে পড়া
রুক্ষ সরনীতে
খেলনা বাটি খেলতে থাকি
মিথ্যে ধরনীতে
রুক্ষ সরনীতে
খেলনা বাটি খেলতে থাকি
মিথ্যে ধরনীতে
এমনি করে সেদিন ছিলে
আজও আছ কবি
সেদিন তুমি ঠাকুর ছিলে
আজকে শুধু রবি ।।
আজও আছ কবি
সেদিন তুমি ঠাকুর ছিলে
আজকে শুধু রবি ।।
চার্লি চ্য়াপলিন
সকাল
সকাল
চোখ খুললাম
আকাশ ভরা আলো
মনটা যেন
হঠাৎ করে
ভীষন রকম ভালো
অফিস যাচ্ছি
ছোট্ট শিশু
মিষ্টি করে হাসে
দুষ্টু চোখ
ভালো লাগে
খুশিতে মন ভাসে
দুপুর বেলা
মেঘ গুরগুর
বৃষ্টি ঠাণ্ডা হাওয়া
মন হারাল
তেপান্তরে
উধাও হয়ে যাওয়া
অপূর্ব আজ
আনন্দময়
হাসিখুশী দিন
সন্ধেবেলা
জানতে পারি
তোমার জন্মদিন
ভালো থেকো
বন্ধু প্রিয়
চার্লি চ্য়াপলিন ।।
চোখ খুললাম
আকাশ ভরা আলো
মনটা যেন
হঠাৎ করে
ভীষন রকম ভালো
অফিস যাচ্ছি
ছোট্ট শিশু
মিষ্টি করে হাসে
দুষ্টু চোখ
ভালো লাগে
খুশিতে মন ভাসে
দুপুর বেলা
মেঘ গুরগুর
বৃষ্টি ঠাণ্ডা হাওয়া
মন হারাল
তেপান্তরে
উধাও হয়ে যাওয়া
অপূর্ব আজ
আনন্দময়
হাসিখুশী দিন
সন্ধেবেলা
জানতে পারি
তোমার জন্মদিন
ভালো থেকো
বন্ধু প্রিয়
চার্লি চ্য়াপলিন ।।
১৪ই আগস্ট।
Just finished reading Old Man at the Bridge. Ernest Hemingway.
তারই অনুপ্রেরনায়।।
------------------------------------------
১৪ই আগস্ট।
সময়টা দুপুর। শ্রীনগর থেকে ৪০ মাইল দূরে। একটা ছোট্ট নদী। সীমান্তে অবিরাম গোলাগুলি। সরকারী নির্দেশে মানুষ গ্রামছাড়া।
নদীর উপর সরু সাঁকো। চটজলদি বানানো। মানুষ পার হয়। 'শয়ে 'শয়ে। বাতাসে ক্লান্তির ছাপ। বারুদের গন্ধ। সীমান্তে যুদ্ধের পরোয়ানা।
অনেকক্ষন ধরে দেখছি। বসে আছেন। সাঁকোতে ওঠার ঠিক আগে। রুক্ষ জমিতে। বৃদ্ধ মুসলমান। পাশে রাখা লাঠি। ছেঁড়া কাঁথার পুটলি। আর একটা রং ওঠা চশমার খাপ। ঠায় বসে আছেন। আকাশের দিকে চেয়ে। জনস্রোত হেঁটে যায়। মিলিটারি ট্রাক। মানুষের মিছিল। দ্রুতগতি। উনি বসে থাকেন।
জিজ্ঞেস করলাম। ' কোথা থেকে? ' 'রাজাউরি' ।
বললাম ' এগিয়ে যান মিঞা। এখনো সময় আছে। এর পর যুদ্ধ হবে। গোলা বারুদ। সময় থাকতে এগিয়ে যান। '
'জানেন সাহেব। আমার কেউ নেই। কেউ ছিল না। শুধু চারটে পশু। একটা বেড়াল। ঘরে। একটা পায়রা। খাঁচায়। আর একটা ভেড়া। খোলায়।
সেদিন ভোরবেলা। সুবেদার সাহেব আমাদের গ্রাম ছাড়তে বললেন। তাড়াতাড়ি। তাড়াতাড়ি। বেরিয়ে পরলাম। পথ চলতে চলতে। আজ এই এখানে। গ্রাম থেকে কত দূরে।'
'বুঝলাম। কিন্তু এ সময়। ভালো নয়। এলাকা খালি করতে হবে। সাঁকো ধরে হেঁটে যান। প্রাণ বাঁচান।'
ঘোলা চোখে আমার দিকে তাকালেন বৃদ্ধ। অনেকক্ষন। কি যেন খুঁজলেন। আমার ভিতরে। যেন গভীর মনোযোগে।
তারপর খুব অস্ফূট স্বরে বললেন
'বেড়াল টা ঠিক আস্তানা খুঁজে নেবে। এখানে সেখানে। ভাঙা বাড়িতে।
খাঁচা খুলে দিয়েছিলাম। পায়রাও উড়ে যাবে। আকাশে। হয়তোবা দুশমন দেশে। (একটু থেমে)
শুধু ভেড়াটার কি হবে? ওর জন্য ভারী চিন্তা হয়। '
আমিও যেন একান্তে নিজেকেই বললাম। 'জানি না। আজ ১৪ই আগস্ট। আর আকাশে কালো ঘন মেঘ। যুদ্ধ বিমান ওড়ার মত অনুকূল পরিবেশ নয়। এই দুই যা ভরসা। '
ধীর পায়ে এগিয়ে চললেন বৃদ্ধ।
দুজনেই যেন একসাথে আকাশের দিকে তাকালাম।
ঈশ্বর-আল্লা দয়ালু মেহেরবান।
ভিক্ষা চাই।নিরীহ ভেড়ার প্রাণ।
তারই অনুপ্রেরনায়।।
------------------------------------------
১৪ই আগস্ট।
সময়টা দুপুর। শ্রীনগর থেকে ৪০ মাইল দূরে। একটা ছোট্ট নদী। সীমান্তে অবিরাম গোলাগুলি। সরকারী নির্দেশে মানুষ গ্রামছাড়া।
নদীর উপর সরু সাঁকো। চটজলদি বানানো। মানুষ পার হয়। 'শয়ে 'শয়ে। বাতাসে ক্লান্তির ছাপ। বারুদের গন্ধ। সীমান্তে যুদ্ধের পরোয়ানা।
অনেকক্ষন ধরে দেখছি। বসে আছেন। সাঁকোতে ওঠার ঠিক আগে। রুক্ষ জমিতে। বৃদ্ধ মুসলমান। পাশে রাখা লাঠি। ছেঁড়া কাঁথার পুটলি। আর একটা রং ওঠা চশমার খাপ। ঠায় বসে আছেন। আকাশের দিকে চেয়ে। জনস্রোত হেঁটে যায়। মিলিটারি ট্রাক। মানুষের মিছিল। দ্রুতগতি। উনি বসে থাকেন।
জিজ্ঞেস করলাম। ' কোথা থেকে? ' 'রাজাউরি' ।
বললাম ' এগিয়ে যান মিঞা। এখনো সময় আছে। এর পর যুদ্ধ হবে। গোলা বারুদ। সময় থাকতে এগিয়ে যান। '
'জানেন সাহেব। আমার কেউ নেই। কেউ ছিল না। শুধু চারটে পশু। একটা বেড়াল। ঘরে। একটা পায়রা। খাঁচায়। আর একটা ভেড়া। খোলায়।
সেদিন ভোরবেলা। সুবেদার সাহেব আমাদের গ্রাম ছাড়তে বললেন। তাড়াতাড়ি। তাড়াতাড়ি। বেরিয়ে পরলাম। পথ চলতে চলতে। আজ এই এখানে। গ্রাম থেকে কত দূরে।'
'বুঝলাম। কিন্তু এ সময়। ভালো নয়। এলাকা খালি করতে হবে। সাঁকো ধরে হেঁটে যান। প্রাণ বাঁচান।'
ঘোলা চোখে আমার দিকে তাকালেন বৃদ্ধ। অনেকক্ষন। কি যেন খুঁজলেন। আমার ভিতরে। যেন গভীর মনোযোগে।
তারপর খুব অস্ফূট স্বরে বললেন
'বেড়াল টা ঠিক আস্তানা খুঁজে নেবে। এখানে সেখানে। ভাঙা বাড়িতে।
খাঁচা খুলে দিয়েছিলাম। পায়রাও উড়ে যাবে। আকাশে। হয়তোবা দুশমন দেশে। (একটু থেমে)
শুধু ভেড়াটার কি হবে? ওর জন্য ভারী চিন্তা হয়। '
আমিও যেন একান্তে নিজেকেই বললাম। 'জানি না। আজ ১৪ই আগস্ট। আর আকাশে কালো ঘন মেঘ। যুদ্ধ বিমান ওড়ার মত অনুকূল পরিবেশ নয়। এই দুই যা ভরসা। '
ধীর পায়ে এগিয়ে চললেন বৃদ্ধ।
দুজনেই যেন একসাথে আকাশের দিকে তাকালাম।
ঈশ্বর-আল্লা দয়ালু মেহেরবান।
ভিক্ষা চাই।নিরীহ ভেড়ার প্রাণ।
মহান মে দিবস।।
মহান মে দিবস।।
আমরা সারা সকাল ক্যাম্পাস সাফাই করে
ফিরলাম। রবিবার সকাল। গরমে ঘেমে নেয়ে
আমি দিগন্ত শৈবাল আর অনুপ্রিয়।
হৈ হৈ করে ঝাঁট দিতাম আমরা। ক্যাম্পাস
ঘুরে ঘুরে শুকনো পাতা। ভেঙে থাকা ডাল
আর ছেঁড়া কাগজ। রাজেশ। দীপংকর।
বারান্দায় গামছা পেতে জিরোচ্ছি। ফুরফুরে
হাওয়া. চোখ বুজে আসে। প্রচন্ড ক্ষিদে পেটে।
শুয়ে পড়ি। ভাস্কর ইন্দ্রনীল মিলন।
সেদিন রবিবার। বিকেলে আত্মীয় স্বজন।
কাকা কে বললাম ' জানো। আজ ক্যাম্পস
ঝাঁড়ু দিয়েছি। আমি গৌতম বীর্যেন্দু। '
পিঠ চাপড়ে কাকা বলেছিল ' বাঃ। বেশ।
আজ তো মেহনতের দিন। আজ মহান
মে দিবস। '
সেই থেকে জানি মে দিবস মানে মেহনত
সেই থেকে জানি মে দিবসেই ঘাম ঝরে
সেই থেকে জানি যারা বন্ধু
তারা মে দিবসে কাজ করে
তারা ভাগ করে কাজ করে
তারা ভালোবেসে কাজ করে ।।
Subscribe to:
Posts (Atom)