Saturday, September 12, 2026

এদিন-সেদিন



সহজ পাঠে সহজ ভাবে
সহজ পরিচয়
আমি তখন নামতা পড়ি
তিন দুগুনে ছয়

ছোট নদীর চলার পথে
যাচ্ছি বহু দূর
পৌষ ডাকে ভর দুপুরে
মন মাতানো সুর

মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে
কান্না কিছুখন
বন্দীবীর এ গাইছ তুমি
অলখ নিরন্জন

অনেক পরে জীবন স্মৃতি
এক ঝটকায় পড়া
কালে কালে নৌকাডুবি
এবং নায়ক গোরা

হোঁচট খাওয়া মুষরে পড়া
রুক্ষ সরনীতে
খেলনা বাটি খেলতে থাকি
মিথ্যে ধরনীতে

এমনি করে সেদিন ছিলে
আজও আছ কবি
সেদিন তুমি ঠাকুর ছিলে
আজকে শুধু রবি ।। 

চার্লি চ্য়াপলিন

সকাল সকাল
চোখ খুললাম
আকাশ ভরা আলো
মনটা যেন
হঠাৎ করে
ভীষন রকম ভালো

অফিস যাচ্ছি
ছোট্ট শিশু
মিষ্টি করে হাসে
দুষ্টু চোখ
ভালো লাগে
খুশিতে মন ভাসে

দুপুর বেলা
মেঘ গুরগুর
বৃষ্টি ঠাণ্ডা হাওয়া
মন হারাল
তেপান্তরে
উধাও হয়ে যাওয়া

অপূর্ব  আজ
আনন্দময়
হাসিখুশী দিন
সন্ধেবেলা
জানতে পারি
তোমার জন্মদিন

ভালো থেকো
বন্ধু প্রিয়
চার্লি চ্য়াপলিন ।।

১৪ই আগস্ট।

Just finished reading Old Man at the Bridge. Ernest Hemingway.

তারই অনুপ্রেরনায়।।

------------------------------------------

১৪ই আগস্ট।

সময়টা দুপুর। শ্রীনগর থেকে ৪০ মাইল দূরে। একটা ছোট্ট নদী। সীমান্তে অবিরাম গোলাগুলি। সরকারী নির্দেশে মানুষ গ্রামছাড়া।
নদীর উপর সরু সাঁকো। চটজলদি বানানো। মানুষ পার হয়। 'শয়ে 'শয়ে। বাতাসে ক্লান্তির ছাপ। বারুদের গন্ধ। সীমান্তে যুদ্ধের পরোয়ানা।

অনেকক্ষন ধরে দেখছি। বসে আছেন। সাঁকোতে ওঠার ঠিক আগে। রুক্ষ জমিতে। বৃদ্ধ মুসলমান। পাশে রাখা লাঠি। ছেঁড়া কাঁথার পুটলি। আর একটা রং ওঠা চশমার খাপ। ঠায় বসে আছেন। আকাশের দিকে চেয়ে। জনস্রোত হেঁটে যায়। মিলিটারি ট্রাক। মানুষের মিছিল। দ্রুতগতি। উনি বসে থাকেন।

জিজ্ঞেস করলাম। ' কোথা থেকে? ' 'রাজাউরি' ।

বললাম ' এগিয়ে যান মিঞা। এখনো সময় আছে। এর পর যুদ্ধ হবে। গোলা বারুদ। সময় থাকতে এগিয়ে যান। '

'জানেন সাহেব। আমার কেউ নেই। কেউ ছিল না। শুধু চারটে পশু। একটা বেড়াল। ঘরে। একটা পায়রা। খাঁচায়। আর একটা ভেড়া। খোলায়।

সেদিন ভোরবেলা। সুবেদার সাহেব আমাদের গ্রাম ছাড়তে বললেন। তাড়াতাড়ি। তাড়াতাড়ি। বেরিয়ে পরলাম। পথ চলতে চলতে। আজ এই এখানে। গ্রাম থেকে কত দূরে।'

'বুঝলাম। কিন্তু এ সময়। ভালো নয়। এলাকা খালি করতে হবে। সাঁকো ধরে হেঁটে যান। প্রাণ বাঁচান।'

ঘোলা চোখে আমার দিকে তাকালেন বৃদ্ধ। অনেকক্ষন। কি যেন খুঁজলেন। আমার ভিতরে। যেন গভীর মনোযোগে।

তারপর খুব অস্ফূট স্বরে বললেন
'বেড়াল টা ঠিক আস্তানা খুঁজে নেবে। এখানে সেখানে। ভাঙা বাড়িতে।
খাঁচা খুলে দিয়েছিলাম। পায়রাও উড়ে যাবে। আকাশে। হয়তোবা দুশমন দেশে। (একটু থেমে)
শুধু ভেড়াটার কি হবে? ওর জন্য ভারী চিন্তা হয়। '

আমিও যেন একান্তে নিজেকেই বললাম। 'জানি না। আজ ১৪ই আগস্ট। আর আকাশে কালো ঘন মেঘ। যুদ্ধ বিমান ওড়ার মত অনুকূল পরিবেশ নয়। এই দুই যা ভরসা। '

ধীর পায়ে এগিয়ে চললেন বৃদ্ধ।

দুজনেই যেন একসাথে আকাশের দিকে তাকালাম।

ঈশ্বর-আল্লা দয়ালু মেহেরবান।
ভিক্ষা চাই।নিরীহ ভেড়ার প্রাণ।

মহান মে দিবস।।

মহান মে দিবস।।

আমরা সারা সকাল ক্যাম্পাস সাফাই করে
ফিরলাম। রবিবার সকাল। গরমে ঘেমে নেয়ে
আমি দিগন্ত শৈবাল আর অনুপ্রিয়।

হৈ হৈ করে ঝাঁট দিতাম আমরা। ক্যাম্পাস
ঘুরে ঘুরে শুকনো পাতা। ভেঙে থাকা ডাল
আর ছেঁড়া কাগজ। রাজেশ। দীপংকর।

বারান্দায় গামছা পেতে জিরোচ্ছি। ফুরফুরে
হাওয়া. চোখ বুজে আসে। প্রচন্ড ক্ষিদে পেটে।
শুয়ে পড়ি। ভাস্কর ইন্দ্রনীল মিলন।

সেদিন রবিবার। বিকেলে আত্মীয় স্বজন।
কাকা কে বললাম ' জানো। আজ ক্যাম্পস
ঝাঁড়ু দিয়েছি। আমি গৌতম বীর্যেন্দু। '

পিঠ চাপড়ে কাকা বলেছিল ' বাঃ। বেশ।
আজ তো মেহনতের দিন। আজ মহান
মে দিবস। '

সেই থেকে জানি মে দিবস মানে মেহনত
সেই থেকে জানি মে দিবসেই ঘাম ঝরে
সেই থেকে জানি যারা বন্ধু
তারা মে দিবসে কাজ করে

তারা ভাগ করে কাজ করে
তারা ভালোবেসে কাজ করে ।।

দুখী-মন।।

One of the most read and acclaimed poems of Pablo Neruda. The Unhappy One. A sheer brilliance of a poetry.

দুখী-মন।।

দোরগোড়ায় দাড়িয়ে ছিল মেয়ে
আমি যেদিন অনেক দূরে পাড়ি
বোঝেনি সে আর হবে না ফেরা
বলে নি সে স্বভাবজাত ' আড়ি '

আমি যেদিন অনেক দূরে পাড়ি

পথ চলছি মাসের পর মাস
দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আসে
পথচলতি বন্ধু হোলো কত
সন্ন্যাসিনী ফোকলা দাঁতে হাসে

দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আসে

বর্ষা এল মুছিয়ে দিতে স্মৃতি
নতুন ঘাস আরো সবুজ তর
পাহাড় ভাঙ্গে পাথর নুড়ি হয়
দোরগোড়াতে মেয়ে থরোথরো

নতুন ঘাস আরো সবুজ তর

যুদ্ধ এল যুদ্ধ যেমন আসে
রক্ত ঝরে সবুজ মাঠে লাশ
আগুন জ্বলে খামার পুড়ে ছাই
দোরগোড়াতে মেয়ের মৃদু শ্বাস

দোরগোড়াতে মেয়ের মৃদু শ্বাস

উপত্যকা আগুনে ছারখার
আমার প্রিয় দোলনা জঞ্জাল
মন্দিরের ঘন্টা ভেঙে পড়ে
শহর আজ বীভৎস কঙ্কাল

আমার প্রিয় দোলনা জঞ্জাল

পোড়া শহর মৃত্যু শয্যায়
রক্ত জমাট গাভীর চোখ চেয়ে
সবই হল ধ্বংস পারাবার
অপেক্ষায় একলা সেই মেয়ে

দোরগোড়ায় একলা সেই মেয়ে ।।

The Unhappy One.

I left her in the doorway waiting
And I went away, away
She didn't know I would not come back

A dog passed, a nun passed,
a week, and a year passed.
The rains wash d out my footprints
and the grass grew in the street, and one after another, like stones,
Like gradual stones, the years
came down on her head.
Then to war came
like a volcano of blood.
Children and houses died.
And that woman didn't die.

The whole plain caught fire.
The gentle yellow gods
who for a thousand years
had gone on mediating
were cast from the temple in pieces.
They could not go on dreaming.
The sweet homes, the verandah
where I slept in a hammock,
the rosy plants, the leaves
in the shape of huge hands,
the chimneys, the marimbas,
all were crushed and burned.
And where the city has been
only cinders were left,
twisted iron, grotesque
heads of dead statues
and a black stain of blood.
And that was man waiting.

Thursday, August 22, 2019

গণতন্ত্রের পাড়া।।

গণতন্ত্রের পাড়া।।


সারা রাত্তির অসহ্য চিৎকার করতো পাড়ার কুকুরগুলো।

তাই খবর দিলাম যেমন প্রয়োজন।

এবার নিশ্চিন্তি ঘুম। 

আঃ, আরাম।


তিন রাত্তির পর পর সুখ নিদ্রা। সহ্য হলে হয় এত সুখ।

চতুর্থ দিন চোর এলো। মাঝরাতে।

বাড়ির পর বাড়ি চুরি। 

ফাঁক, বেবাক।


‘সারা পাড়া নিস্তব্ধ করে দিলে ভালো ঘুম হয়’ বিজ্ঞ খুড়ো।

তবে নিঝুম পাড়ায় আঁধার নামে।

জনমানুষ ঘুমায় শান্তিতে।

ভাবের ঘরে চুরি হয়


যেমন বিরোধী শূণ্য গনতন্ত্রে ।।

Tuesday, October 10, 2017

অধর্ম।।

মান সম্বন্ধে হুঁশ। মানুষ।
কত প্রলোভন। কত সংকেত।
মানিয়ে নেওয়ার জন্যে কত উপদেশ।
মানল কই সে, 

একরত্তি মেয়ে? 

শাষিয়ে গেল ‘ দেখে নেব’

একরত্তি মেয়ে। 

মেঘ লুকলো, সুর পালাল, 

আঙুল গরম ঝাঁঝে।।


‘এত প্রতিবাদী কেন,
মেয়ে?
নে, আপোস করে নে
একরত্তি শরীরটা কে
একটুতো ছাড় দে

নে,
আপোস করে নে ‘

মেয়ে চাইল একবার।
মেয়ের আগুন-ঝরা
চোখ,
আঙুল খুঁড়ে মাটি
মেয়ে বুঝিয়ে দিল
রোখ

মেঘলা হোলো দেশ
বৃষ্টি হোলো খুব
আগ জুড়োলো কই
মেঘের সন্দেশ ?

হাওয়ায় ভৈরবী
মাদল বাজে বনে
আঙুল গেড়ে মেয়ে
অন্য কোনোখানে

মেয়ে যুদ্ধ বলেছে
মেয়ে আঙুল গেঁথেছে
মেয়ে শান্ত হবেনা
মেয়ে শপথ নিয়েছে


শাস্তি পেল সে।


আঙুল তুলে মেয়ে

‘জাহান্নমে ফের
আঙুল চিনে নে ‘

পা বাড়াল মেয়ে

ভেংচি কেটে
সূয্যি মামা

‘ লে হালুয়া, লে ‘


মেঘ লুকেলো
ভৈরবী ও
লজ্জ্বা পরকাশে

বুঝিয়ে দিল মেয়ে
আঙুল তুলে মেয়ে
আপোস করা অধর্মীয়

মানুষ হতে চেয়ে।।